Sunday, March 29, 2015

এস প্রেম !

অনন্তকাল ধরে অন্তহীন পিয়াস নিয়ে
তাকিয়ে আছি উর্দ্ধ গগনে -
তোমার হ্নদয়ের আকাশের নিচে
আমি প্রতিক্ষমাণ চাতক !
শিশির বিন্দু অথবা একফোঁটা বৃষ্টির মতো
একচিলতে ভালবাসা আমাকে দাও ।
তোমার ভালবাসার স্পর্শে
জোয়ার আসুক প্রেমরসের
সজীব হোক এ চিত্ত-সাহারা ।
তোমার অকিঞ্চিৎ ইশারায়
পাড়ি দেব প্রণয়ের অন্তরীক্ষ
মেঘের সাম্পানে ভেসে।
আর ভেসে যাব এই অবনীর বুকে
ধানক্ষেতের অনাবিল স্রোতে।
তোমার ভালবাসা পেলে
জোনাকিদের সাথে রাতের আঁধারে করবো মিছিল ,
তোমার ভালবাসা পেলে গোধূলি আকাশে আঁকব চিত্রলেখা
যদি ভালোবাসো, মৌমাছিকে পদ্য শোনাব।
শ্বেত-চিলের পাখায় ভর করে
ছড়িয়ে দেব ফাগুনের রং
স্বপ্নের আলপনা আঁকব নিশ্চুপ ভোরের আড়ালে,
তোমার ভালবাসা পেলে
নকশিকাঁথায় লিখব প্রেমের উপাখ্যান
সূর্যাস্তের শেষক্ষণে বসে ।
তুমি যদি দাও ভালবাসা
তবে ভুলে যাব ক্লিওপেত্রার মোহ,
বৃহস্পতির আকাশ থেকে ছিনিয়ে আনব
ষোলটি চাঁদ,
শুধু তোমায় ভালবেসে!
এস প্রেম, তোমার উদাত্ত আহ্বানে
মত্ত পিপীলিকার মত পুড়ে মরি -
অনাদি নির্ভেজাল কামনায় আগুনে।

মনসার কালনাগিনী

মনসার কালনাগিনী  
আমাকে দংশন করে বার বার
মনসার কালনাগিনী
সুতানালী সাপ ।

বেহুলার বাসর ঘর ছেড়ে
ফেরেনি সে নিজ আস্তানায়
শেষ রাতে চুপিসারে ঢুকেছে-
আমার ঘরে ।
আমি নাকি তার দ্বিতীয় লক্ষীন্দর ।

সেই থেকে আজও রসিয়ে রসিয়ে কাটে
শিরা উপশিরা অবিরাম ।
রক্তে আমার বিষ, আর সেই রক্ত মনে
শান্তি খুঁজি বোতলের হলাহলে।

মনসার কালনাগিনী
মগজের পরতে পরতে পান করে
শক্তি-সুধা-অস্থি-মজ্জা ইচ্ছে মতো।
বানভাসি কান্নায় ভাসে হতাশার ভেলা
গাঙচিলের মত তার গায়ে নাকি
একাকিত্বের তকমা ।

এখন ছোবলই আমার প্রাপ্য, পাপস্খলনের পথ
বেহালার করুণ সুরে তাই আজ বেহুলার আর্তি শোনা যায়।