Wednesday, April 14, 2021

মধ্যরাতের গল্প

- এই, ঘুমোচ্ছিস?

- নাহ, তুই কি করছিস জেগে?

- ঘুম আসছে না !

- কে!

- তোর একটা গল্প শুনি?

- (থেমে) বহুদিন আগে অপূর্ব সুন্দরী এক কন্যে ছিল, যার চোখে এক ফোঁটা ঘুম নেই |

- ...আচ্ছা !

- বছরের পর বছর জেগে থেকে থেকে তার ঘুম গুলো সব জমাট বেঁধে অদ্ভুত এক নোটবই এর আকার নিল

- আহ, গুল- তাপ্পি ভালোই শুরু হয়েছে দেখছি ! তা এই অদ্ভুত নোটবই কি লেখা ছিল ?

- ইন্টারেষ্টিং কোয়েশ্চেন। কিচ্ছুটি না , একেবারে গড়ের মাঠ।

- তো সে নিশ্চই ভেবেছিলো কেউ ওটা ভরবে...

- তাই হয়তো , বলতে পারিস ! এরপর একদিন রোজকার মতো গোধূলি বেলায় মস্ত সরোবরের ধারে কন্যে হেঁটে বেড়াচ্ছে। হঠাৎ দেখা এক বহু পুরোনো বন্ধুর সাথে। বন্ধু দেখে কন্যে যেন অন্যমনস্ক। কথায় কথায় এলো কন্যের জেগে থাকা আর ঘুম-বাঁধানো নোটবই এর বৃত্যান্ত। কন্যে বন্ধু কে বলে - এই দেখো সেই শুন্য খাতা, তুমি কিছু লিখবে ?

- হুম , তা এই বন্ধুটি কি সুদর্শন ?

- সে কন্যেই বলতে পারবে...ভালোই হবে হয়তো...

- আবার 'হয়তো' ! আচ্ছা যাকগে তারপর?

- তো সেই বন্ধু সাত পাঁচ ভেবে প্রথম পাতায় লিখলো - "ভালো থেকো, ভুল নাকো"

- ক্লিশে , তবে ছোকরা বেশ সাবধানী তো!

- হুম , কিন্তু কন্যে যেই অন্য দিকে তাকিয়েছে , তড়িঘড়ি ভেতরের কোনো এক পাতায় লিখে দিলো - "ভালোবাসি" আরো কিছু লিখতে যাচ্ছিলো কিন্তু সে সুযোগ আর হলো না। আশায় রইলো কখনো তো কন্যে সেই পাতা খুলে দেখবে!

- একাধারে সেয়ানা ক্যাবলা প্রেমিক...ক্লাসিক। তারপর?

- কন্যে সেই লেখা খুঁজে পেলো প্রায় বছর খানেক পরে। কিন্তু মুশকিল হলো তাড়াহুড়োয় প্রেমিক বাবাজির বিক্ষিপ্ত মনের মনের মতো হাতের লেখা গেছে ছড়িয়ে। তো কন্যে বুঝতে পারেনা কার লেখা। বুঝতেই পারছিস, সুন্দরী মেয়ের তো আর উপাসক এর অভাব থাকে না।

- আহহ ! তো গল্প এখানেই শেষ নাকি?

- হ্যাহ, এই আমার নোটেগাছ মুড়োলো। .. কন্যে মনে মনে খুশি হয় অজানা প্রেমিক এর কথা ভেবে আবার দুঃখ পায় চিনতে না পেরে। "রাখালের ভিড়ে রাধে কৃষ্ণ চেনে ক্যামনে ?"

- আর সেই ছেলে ? সে কিছু বললো না ?

- ধুস , বলার হলে তো প্রথম পাতায় গোটা গোটা অক্ষরে লিখেই ফেলতো। তার গোপন প্রেমের ফুলঝুরি আর বিরহের দোদোমা দুই বাড়তে লাগলো "দূর থেকে উড়ো হামি, আড়াল হয়ে অন্তর্যামী"

- বেশ একটা চনমনে মিষ্টি প্রেমের গল্পটায় সানাই বাজিয়ে দিলি !

- হুম... যাকগে এবার আমি ঘুমোতে যাই , তুইও ঘুমো |

- কে , গুড নাইট। থ্যাংক ইউ

- গুড নাইট

- ওয়েট !

- কি ?

- তুই কি আমায় কিছু বলতে চাইছিস ?

- কি বলবো?

- মানে এই গল্পটায় কি আমার জন্য কোনো মেসেজ ছিল?

- না

- কে !

- মোটেই না , একদম না !

- আচ্ছা ঠিকাছে, সরি , গুড নাইট

- হ্যাঁ সেই ভালো ... তোর আসলে ঘুম পেয়েছে , তাই বাজে বকছিস, যা ভাগ টাটা

 

ফোন রেখে পাশ ফিরে শুয়ে কন্যে ভাবতে লাগলো - শুধু 'না' বললেই তো চলতো , এই "মোটেই না " , "একদম না " এগুলোর কি অর্থ !

 

Friday, January 29, 2021

বৈশাখী বিকেলের গল্প

 


শ্রাবন্তী রান্নাঘরের জানালা বন্ধ করে এসে অনীশের কোলে মাথা দিয়ে শুলো। ৫টাও বাজেনি এখনো কিন্তু আকাশ কালো করে চলছে কালবৈশাখীর দাপট, ঝিরঝিরে বৃষ্টিও নেমেছে মনে হয় - সোঁদা গন্ধ ভেসে আসছে। নিজের অজান্তেই অনীশ শ্রাবন্তীর চুলে বিনুনি কেটে চলেছে।

"আচ্ছা এই যে খুব অন্তরঙ্গ মুহূর্তে যখন তুই আমাকে আই লাভ ইউ বলিস আর আমিও প্রত্যুত্তর দিই, তোর কি মনে হয় না এটা শুধু কথার কথা, আসলে আমাদের মধ্যে যোজন প্রমান দূরত্ব ?" শ্রাবন্তী অন্যমনস্ক ভাবে প্রশ্ন করে।

"সে আবার কি!" অনীশ বলে. "আই লাভ ইউ মানে আই লাভ ইউ, আর কি হবে?"

"হুম" শ্রাবন্তী বলে একটু থেমে, " কে, থিঙ্ক অফ ট্রি"

"মানে?" অনীশ অবাক হয়।

"মনে মনে একটা গাছের কথা ভাব"

"যে কোনো গাছ?"

"হ্যাঁ " শ্রাবন্তী হেসে বলে। অনীশ কিছুক্ষন চুপ করে চিন্তা করে। "তো কোন গাছ মাথায় আসছে?"

"উমম... একটা আকাশছোঁয়া লম্বা গাছ, ঘন জঙ্গলের মধ্যে - হয়তো পাইন বা ইউকিলিপটাস।"

"এই তো, এটাই ব্যাপার। জানিস আমার মনে কি এসেছিলো? অপরাজিতা ফুলের গাছ। আমার লতা গাছ শহুরে বাড়ির ছাদে বা হাইওয়ে এর পাশে গজানো আর তোর মহীরুহ মাথা উঁচিয়ে ঘন জঙ্গলে। "

"তাতে কি ! দুটোই তো গাছ "

"হ্যাঁ, সেটা ওই নাম মাত্র। আমরা একই জিনিস নিয়ে ভাবছি , অথচ আমাদের এসোসিয়েশনে কি বিস্তর পার্থক্য - আমাদের অভিজ্ঞতা আর জীবনবোধই আলাদা করে দেয়। "

"হুম , তা ঠিক " , অনীশ বলে। "এখন তুই বলার পর আমিও পার্থক্য তা বেশ বুঝতে পারছি। অবাক কথা আমি ঘুনাক্ষরেও কোনো শহুরে গাছের কথা ভাবিনি , সোজা চলে গেছি জঙ্গলে। তার অন্য একটা সৌন্দৰ্য , অন্য দর্শন। শহরের চেয়ে ওই আমাকে বেশি টানে। "

"এক্সাক্টলি। তাহলেই এবার বুঝে নে , গাছের মতো একটা আপাত সাধারণ জিনিসে যখন এতো তফাৎ , তখন ইন্ট্যাঞ্জিবল ইমোশনস এর ক্ষেত্রে কি হবে !"

"লাইক লাভ ?"

"ইয়েস স্যার " শ্রাবন্তী ক্লাশে উত্তর দেবার ভঙ্গিমায় সোজা হাত তুলে বলে।

অনীশের কপালে ভাঁজ , এই আলোচনা যে এতো কঠিন হবে সে ভাবেনি। "সো তুই কি ভেবে আই লাভ ইউ বলিস?"

"মনের সংযোগ, আত্মার মিলন" শ্রাবন্তী বলে চলে , "আমরা ওই মেটে ইঁদুরের মতো একে ওপরের হৃদয়ের গভীরে গর্ত খুঁড়ে চলেছি, সারে পৌঁছবো বলে। অদ্ভুত সে যাত্রা - মিস্টেরিয়াস, ভালনারাবেল, এডভেঞ্চারাস..."

"ওয়াও! দ্যাটস কোয়াইট সামথিং"

"আর তুই? তোর কাছে আই লাভ ইউ মানে ?"

অনীশ আবার একটু ভাবে। "আমার কাছে শুধুই অনাবিল আনন্দ।" অনীশ বলে, "ভালোবাসা হলো তোকে জড়িয়ে ধরা, পার্কার বেঞ্চিতে বসে চুমু খাওয়া, তোর সাথে খোলা আকাশের নিচে বসে তারা গোনা, তোকে কবিতা শোনানো বা তোর কানে জবা ফুলটি গুঁজে দেওয়া - সহজ চাওয়া-পাওয়া ,তাৎক্ষণিক "

শ্রাবন্তী বাঁকা হাসি হেসে বললো , "মিষ্টি !"

"কিন্তু তোর ভার্সানটা তো আমার চেয়ে ঢের গভীর। "

"ধ্যাৎ, এটা কি কম্পিটিশান নাকি!" শ্রাবন্তী এবার খিলখিলিয়ে হেসে উঠলো। "এখানে কেউ ফার্স্ট সেকেন্ড হচ্ছে না বাবু। আমি তো বলি, কোনো ভালোবাসাই ফেলনা নয়। চেষ্টা এখন পরস্পরের ভালোবাসার জগৎটা কত ভালো ভাবে চেনা যায়। "

"সত্যি কি কখনো অন্যকে এতটা জানতে পারবো? "

"হয়তো না। ভালোবাসাটা সত্যি হলে জানার চেষ্টাটা তো থেকেই যাবে, তাই না?" শ্রাবন্তী আলতো স্বরে বলে।

"হুম, তো এখন আমাদের এই বিপরীতগামী জীবন-সংজ্ঞা গুলো কে মেলাবো কি করে?" অনীশ ব্যস্ত হয়ে জিজ্ঞেস করে। "তবে কি দূরত্ব কমবে না? এই পুরো আলোচনার সেটাই কি মুখ্য উদ্দেশ্য নয়? "

শ্রাবন্তীর চোখে অদ্ভুত দ্যুতি, সে অনীশের দিকে তাকায়।

"কি?" অনীশ বোকার মতো জিজ্ঞেস করে।

"মনে হচ্ছে আমরা ঠিক দিকেই এগোচ্ছি বুঝলেন বাবুমশাই" শ্রাবন্তীর মুখে মোহক হাসি। "অল উই নিড টু ডু ইজ কিপ টকিং। "

বাইরে এখনো ঝোড়ো হাওয়া আর বৃষ্টি। শ্রাবন্তী রান্না ঘরে গিয়ে দু-কাপ চা নিয়ে আসে।

 

আজ সেইরকম ভালো লাগা একটা বিকেল।

Thursday, January 28, 2021

- কিরে সরস্বতী পুজোর দিন কোমর জড়িয়ে ছবি তোলার পর তো হাওয়া দেখছি !

- আছি আছি প্রিয়ে, সঙ্গোপনে তোমার হিয়ে।

- কাব্যি করে পার পাবে ভেবেছ ! প্রেমের চোটে "আনন্দে পতন মূর্ছা" ...

- কোল পেতে বসে এই, মূর্ছায় ক্ষতি নেই। ইয়ে, বলছিলাম কি... আনন্দ হলোই যবে, বরমাল্য আনি তবে ?

- ঢং


***********************************************************************************


প্রেমের চিঠি হারিয়ে গেছে, নতুন ক্যাম্নে লিখি!!

ওই মেয়েটা, স্যাম্পল দে! টুকলি করে শিখি….


***********************************************************************************


রিঙ্কু আমার ঝিঙ্কু ভারি

বড্ড মিসিং তারে -

জংলি মন শান্ত হবে

কামিং শনিবারে


***********************************************************************************

একটু একটু চড়ছে শট,

ঘরের ভিতর হচ্ছে হট!

দিনগুলোতে পড়ছে জট  -

জীবনটা আজ স্পিকটি-নট...


***********************************************************************************


সেই ভালো সেই ভালো...

অমাবস্যার রাত যে চোখে গগলস কালো !!

 

দাস-কথা

- বলছি যে সুরাপাত্র কে একটু খ্যামা দিলে ভালো হয় না কি ! ইস, পুরো ঘরটা ধোঁয়া হয়ে গেছে...

 

- এক টুকরো খাঁটি ভালবাসার আশ্বাস পেলে

হৃদয়টাকে দীর্ঘ্য মেয়াদী বন্ধক দেবো,

নীল খামে মোড়া একটা প্রেমের পত্র পেলেই

সদ্য ধরানো সিগারেটটাকে ছুড়ে ফেলে দেবো।


- পারিনা! দেবদাসের শরীরে রবির আবির্ভাব  -

- কিন্তু সেই যে পারোর অভাব ..

- চন্দ্রমুখীর তো ছড়াছড়ি!

- এই তো গোড়ায় গলদ...তুমিও করলে প্রিযে পারোর প্রেম না থাকলে দেবদাস ওই চুল্লু খাওয়া লম্পট আর চন্দ্রমুখীর জীবনটা বাইজি-ঘরেই শেষ...এই শর্মার তো ফান্ডামেন্টাল ইন্গ্রেদিয়েন্ট টাই মিসিং ! পারো, পারো করে বোতল শেষ হয়েযায় , দেবদাস হওয়া আর হলো না।

- উফ সত্যি ! এত কথা নিজেই ভাব নাকি কোনো চন্দ্রমুখী অ্যাসিস্ট্যান্ট আছে! যা প্রাণ চায় করোগে যাও...

- আচ্ছা বাবা...শ্রীমতি ভয়ঙ্করী হয়ে ওঠার আগেই পান-কার্যে ইতি।  এই, একটু ঝুরিভাজা দিয়ে মুড়ি মেখে দাও না, বড্ড খিদে পেয়েছে মাইরি, পারোর দিব্যি !

যত্তসব নাটক !

Tuesday, January 12, 2021

- "আজ মন চেয়েছে আমি হারিয়ে যাবো, হারিয়ে যাবো আমি তোমার সাথে..."

- বাব্বা, ঘরকুনো লোক কি আমাজন অভিযানে বেরোবে নাকি !

- প্রেমে পড়া আর জলে পড়া ওই একই বুঝলি - প্রাণ যায়-যায়...

- কিন্তু তুই তো সাত ঘাটের জল খেয়েছিস - যাকে বলে দক্ষ সাঁতারু।

- [দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে] নাহ রে, তাও হয় কুমিরে টানবে নয় নিউমোনিয়ায় , উপায়ন্তর দেখিনা। আচ্ছা, এই প্রেমে-টেমে পড়লে মানুষ কিরম জড়িয়ে পড়ে কেন বলতো ?

- ভালো প্রশ্ন। জনৈক প্রেমতত্ববিদ বলেছেন, আদি- অকৃত্রিম চাহিদা আর ভয় একসাথে ঘোঁট পাকানোর নামই হলো প্রেম। তখন মনে হয় - ইউরেকা, এই তো আমার সব সমস্যার সমাধান। সুতরাং, জালে জড়াও আর জ্বালা বাড়াও ...

- বাট দ্যাটস নট প্রাকটিক্যাল- জ্ঞানপাপীর মতো কাজ নয় ?

- ঠিকই তো, একদম তাই। কিন্তু ওই বিশ্বাসে মিলায় প্রেম , মস্তিষ্কে অন্ধকার - ইটস লাইক এ প্লেসান্ট ডিসিস।

- তো এ রোগের ওষুধ হয় ?

- হ্যাঁ, হয় তো।

- কি শুনি ?

- বিয়ে, অফ কোর্স!

- হাহাহা, তাই বুঝি !

- একদম বাস্তবের মুখোমুখি, যেন দিন-রাত অন্য মানুষটার সত্যি-- মিথ্যের লাইভ টেলিকাস্ট - বিগ বসের ঘরে লুকোনো স্পাইক্যাম। তখন বুঝবে তিনি বিপদতারিনী না সুখহরণী ... হাহাহা!

- মোহ যায় ভেঙে -

- নো জাল, নো জ্বালা -

- আন্ড দে লিভ হ্যাপিলি এভার আফটার ...

- ওয়েল মাই ডিয়ার ওয়াটসন, কন্ডিশনস এপলাই !



Sunday, March 29, 2015

এস প্রেম !

অনন্তকাল ধরে অন্তহীন পিয়াস নিয়ে
তাকিয়ে আছি উর্দ্ধ গগনে -
তোমার হ্নদয়ের আকাশের নিচে
আমি প্রতিক্ষমাণ চাতক !
শিশির বিন্দু অথবা একফোঁটা বৃষ্টির মতো
একচিলতে ভালবাসা আমাকে দাও ।
তোমার ভালবাসার স্পর্শে
জোয়ার আসুক প্রেমরসের
সজীব হোক এ চিত্ত-সাহারা ।
তোমার অকিঞ্চিৎ ইশারায়
পাড়ি দেব প্রণয়ের অন্তরীক্ষ
মেঘের সাম্পানে ভেসে।
আর ভেসে যাব এই অবনীর বুকে
ধানক্ষেতের অনাবিল স্রোতে।
তোমার ভালবাসা পেলে
জোনাকিদের সাথে রাতের আঁধারে করবো মিছিল ,
তোমার ভালবাসা পেলে গোধূলি আকাশে আঁকব চিত্রলেখা
যদি ভালোবাসো, মৌমাছিকে পদ্য শোনাব।
শ্বেত-চিলের পাখায় ভর করে
ছড়িয়ে দেব ফাগুনের রং
স্বপ্নের আলপনা আঁকব নিশ্চুপ ভোরের আড়ালে,
তোমার ভালবাসা পেলে
নকশিকাঁথায় লিখব প্রেমের উপাখ্যান
সূর্যাস্তের শেষক্ষণে বসে ।
তুমি যদি দাও ভালবাসা
তবে ভুলে যাব ক্লিওপেত্রার মোহ,
বৃহস্পতির আকাশ থেকে ছিনিয়ে আনব
ষোলটি চাঁদ,
শুধু তোমায় ভালবেসে!
এস প্রেম, তোমার উদাত্ত আহ্বানে
মত্ত পিপীলিকার মত পুড়ে মরি -
অনাদি নির্ভেজাল কামনায় আগুনে।

মনসার কালনাগিনী

মনসার কালনাগিনী  
আমাকে দংশন করে বার বার
মনসার কালনাগিনী
সুতানালী সাপ ।

বেহুলার বাসর ঘর ছেড়ে
ফেরেনি সে নিজ আস্তানায়
শেষ রাতে চুপিসারে ঢুকেছে-
আমার ঘরে ।
আমি নাকি তার দ্বিতীয় লক্ষীন্দর ।

সেই থেকে আজও রসিয়ে রসিয়ে কাটে
শিরা উপশিরা অবিরাম ।
রক্তে আমার বিষ, আর সেই রক্ত মনে
শান্তি খুঁজি বোতলের হলাহলে।

মনসার কালনাগিনী
মগজের পরতে পরতে পান করে
শক্তি-সুধা-অস্থি-মজ্জা ইচ্ছে মতো।
বানভাসি কান্নায় ভাসে হতাশার ভেলা
গাঙচিলের মত তার গায়ে নাকি
একাকিত্বের তকমা ।

এখন ছোবলই আমার প্রাপ্য, পাপস্খলনের পথ
বেহালার করুণ সুরে তাই আজ বেহুলার আর্তি শোনা যায়।