Saturday, March 5, 2011

দাড়ি-পাগল প্রেমিক ছাগল


উৎসর্গঃ নতুন মুখের সপ্তর্ষি মন্ডলকে (বুড়োদা), তার নিরন্তর অফলপ্রসূ চেষ্টার সম্মানার্থে -  :P :D



এক যে ছিল রামছাগল
       বঙ্গদেশে বাস ,
আঁতলামো আর আলসেমিতে
       একশো দিনে মাস ।

বয়স তার ভালই হল
       তাই ধরেছে ভিমরতি
সারাদিন শুধু ওই চিন্তা
       কাজে-কম্মে নেই মতি।

এতদিন তবু খুশি ছিল
       chat sms পেলে,
চুলকুনিটা বেড়েছে এখন
       ভরা গ্রীষ্মকালে ।

দারুণ রকম fight মেরে
       love-starved সেই ছাগল
মেয়ে দেখলেই প্রেম উথলে
       কবিতায় হয় পাগল ।

কবি হয়েও ভাবের খরা
       প্রেমিকার নেই খবর
রমণীমোহন হতেই হবে
       পণ নিয়েছে জবর ।

নানা কিশিম ফন্দি করে
       নিজ বয়স ভুলে ,
বুড়ো ছাগল মন দিয়েছে
       facial ঐ চুলে ।

দেখে এক সুপুরুষ
       কোট-বুট-টাই ,
ভাবল ছাগল, “ Eureka,
       এই look-টাই চাই ।

ছুরি-কাঁচি চালিয়ে শেষে
       self-obsessed মদন
দাড়ি রেখে হয়েছে এখন
       ফরাসী চাঁদবদন ।

বিজ্ঞাপনের যুগ এ যে
       ঠিকই বুঝেছে সেটা
ফেস পালটে facebook-এতে  
       ছবি, post-এর ঘটা ।

এত করেও ফলছে না ফল
       প্রেমিক-অজ রিক্ত!
Better হত ছাগল যদি
       আয়না দেখতে শিখত ।।



Monday, January 10, 2011

আরেকটি প্রেমের গল্প


বিঃদ্রঃ  গতকাল আমার বন্ধুগোষ্ঠীর ছজন আনুষ্ঠানিকভাবে অর্ধ-অর্ধনারীশ্বর” (my translation for “in a relationship”) হয়েছেন। চারদিকে এত লাভ দেখে একটা প্রেমের কবিতা লেখার লোভ সামলাতে পারলাম না J



[একটি ঘেঁটে-যাওয়া প্রেমিকের দৃষ্টিকোণ থেকে লেখা ]

ধর্মতলার মেট্রোতে
সেই যে প্রথম আলাপ ,
ভাবলাম বুঝি শান্ত হল
শূণ্য বাহুর বিলাপ ।

ঠেসাঠেসি গাদাগাদি
জুলাইয়ের ওই গরমে ,
মিষ্টি মুখের দুষ্টু হাসি
মরিলাম মুই মরমে।

কালিঘাটে নামার সময়
ফুলকো গালে blush,
এপাশ-ওপাশ-ধপাশ হয়ে
ঢুকি শেষে গিয়ে class

বসতে গিয়ে চমকে উঠি
lub-dub যায় শোনা
যত বড় ঘর নয় এ যে
তার চেয়ে বড় ঘটনা।

আমার সেই পাতালকন্যা
first bench-এ বসে
ছুট্টে গিয়ে পাশটিতে তাই
বসলাম ঠেসেঠুসে।

বাঁকা হেসে বলেন teacher
সন্দিহান চোখে,
তুমি তো দেখি হার মানাবে
রামের সুমতিকে!!

সেই যে তুমি pen চাইলে
দিলটা দিলাম আমি
বকম বকম পায়রাগুলো
ফরসা গালে হামি।

তারপর সেই কত-শত প্রেম
হিসাব রাখিনি কেউ,
single হল relationship
অভিবাদনের ঢেউ।

একটানা কারো সুখের দিনে
bore হন ভগবান
খেলার ছলে tune করেন
জীবন পাল্টান।

তোমার বায়না ন্যাঁকা লাগে আজ
আমার plan বেকার -
সময়-কাটানো সঙ্গী মোদের
শুধু chinese checker

সারারাত যত মোবাইল fight
বিকেল বেলায় দেখা,
দিনের শেষে ঘরে ফিরে দেখি
মানিব্যাগটা ফাঁকা।

ছিলাম আমি বোকা
তাই কি দিলে ছ্যাঁকা ?
তেমন কিছুই হয়নি আমার
লাগছে শুধু একা।

তুমি আমায় ভাঁওতা দিলে
আমি দিলাম আড়ি
ঠিক করেছি প্রমাণস্বরূপ
কাটবো না আর দাড়ি।

retro look-এর জয়গান খুব
আঁতেল চূড়ামণি ,
গরম মতো নরম মেয়ে
বলছে মোরে “ honey”

তোমার আমার অনন্ত প্রেম
শুকিয়ে এখন বাসি,
নতুন আরেক ভালবাসা-গেম
করছে আসি আসি।

Sunday, January 2, 2011

একটি অর্থহীন কবিতা


আমি তোমাকে আগেই বলেছি, আমার কবিতার অনাঙ্গ অনুভূমে,
আমার একান্ত অনুগত নিভাজ শব্দরা, তোমার গরাদে তুলে রাখা
অন্তর্বাসের মতই, অতিশয় অর্থহীন,
এরা বিশেষ কোন অর্থ বহন করেনা কখনোই-
এই যে তোমার উষ্ণ ছন্দময় দেহবল্লরী দোলনচাঁপার ঘ্রাণে
দুলে ওঠে উন্মাতাল, কথ্থক নৃত্যকলায়,
এই যে তোমার দুষ্টু ইশারায় কাছে ডাকা আর তারপর
বাইবেলের কালো হরফের মত নিষ্পাপ শিশিরের স্বচ্ছ্ব ঠোঁটে,
লিখে রাখে শেষ রাতে, বীজতলায় যুথ-বদ্ধ সঙ্গমের সফল ইতিহাস-
কবিতার শরীরে আমার শব্দরা এতটা শৈল্পিক কিন্তু কখনও নয়

তবু তুমি স্বর্ণকণা ভেবে উদ্গ্রীব বেনিয়ার মত
আমার কবিতায় প্রতিটি শব্দকে উল্টেপাল্টে দেখো,
নাক-মুখ-চোখ দেখো, ঠোঁট দেখো, বুক দেখো,
নাকের নাকছাবি, বুকের বোতাম, নাভিমূল, জঙ্ঘা, সব দেখো, সব.
কিন্তু দোহাই তোমার, শুধু আমাকে কোন শব্দের অর্থ জিজ্ঞেস কোরোনা,
আমি তোমাকে আগেই বলেছি-
কবিতার অনাঙ্গ অনুভূমে, আমার শব্দরা, কোন অর্থ বহন করে না।

এই যে তোমার নিরাভরণা বুকের ভাঁজে লুকানো চন্দ্রিমায়, চোখ রেখে
ঝলসে যায় চাঁদের পাহাড়, রাস-পূর্ণিমার রাতে,
এই যে তোমার কাজল-কালো চোখের ফাঁদে,
অনিমেষ পথ ভুলে নক্ষত্রের ঝাঁক-তুমি তখন আলতো স্বরে বলো,
এ নিছক পাগলামি, এর কি কোন মানে হয়?
এই যে আমি প্রতি রাতে, অন্ধকার শোবার ঘরে, সব আলো নিভিয়ে দিয়ে,
দেয়ালে টাঙিয়ে রাখা তোমার ছবির পায়ে, নিঃশব্দ আর্তনাদে লুটিয়ে পড়ি,
এর কি কোন মানে হয়?
কবিতার শরীরে আমার শব্দরাও এমনি, নিরুপম অর্থহীন।

এক টুকরো খাটি ভালবাসার আশ্বাস পেলে
হৃদয়টাকে দীর্ঘ্য মেয়াদী বন্ধক দেবো,
নীল খামে মোড়া একটা প্রেমের পত্র পেলেই
সদ্য ধরানো সিগারেটটাকে ছুড়ে ফেলে দেবো।
আর চাঁদ-তারার সহবাসের ফাঁক-তালে
আমরা পাড়ি দেব স্বপ্নলোকে...
তুমি হাসো, পাগল! এর কি কোন মানে হয়?
না , এর কোন মানে নেই,
কবিতার শরীরে, প্রতিটি শব্দের, কোন মানে থাকতে নেই
আমার সৃষ্টি নিতান্তই সৃষ্টিছাড়া... !!

একটি ছন্নছাড়া ভালোলাগার কবিতা

এ বড় আজব খেলা
কাকে যে কখন ভালো লেগে যায় !
জানিই তো সে আমার নয়
তবু পোড়া মন কেন যে তাকেই চায়!!

কাকে যে কখন ঘোরলাগা চোখ
আচম্বিতে ফিরে ফিরে চায়,
জানিই এতো হঠাৎ দেখা
তবু কেন যে তাকে দুচোখে হারায় !!

কখন যে কার রাঙা অধর
শান্ত বুকে তুর্কি নাচায় ,
জানিই এতো দমকা হাওয়া
তবু কেন যে প্রেম নিরুদ্দেশে ধায় !!


হলেও হবে একতরফা
পাঠালাম তোমায় একবুক তৃষ্ণার মেঘ
কামনার বারিতে নির্বিচার ভিজে চলা স্পর্ধিত ইচ্ছে
আর স্পন্দিত হৃদয়ের দহন-জ্বালা মিশে থাক তাতে ।।
তোমার চকিত চাহনি, প্রশ্রয়ের ঈষৎ খেলোয়াড়ি হাসিতে
আমার ন্যায়-অন্যায় অবধূত ঔদাসীন্যে ঝুলে থাকে।
কিসে যে কখন বিলীন হতে প্রাণ কাঁদে !
সমর্পিত পরাজয়েও মেলে দুর্বোধ্য আনন্দ !
কেউ বুঝবে না কখনো - যে পরেনি
এ মধুর-যাতনার কন্টক-মাল্য !!